বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ সম্মানজনক অবস্থান রেখে আসা আল জহিরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বাসযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে বিশুদ্ধ ও আধুনিক দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা এবং চরিত্রবান, দ্বীনদার, সমাজকল্যাণে নিবেদিত আদর্শ আলেমগণ গড়ে তোলা।
মাদ্রাসাটির শিক্ষাব্যবস্থা কওমি ধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক ও সুসংগঠিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে। এখানে মিজান থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের শিক্ষা প্রদান করা হয় যা শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, আক্বীদা, ফিকহ, তাফসীর, হাদীস, আরবি ভাষা ও ইসলামী ইতিহাস বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।
এই মাদ্রাসায় কেবলমাত্র জ্ঞানার্জন নয়, আত্মশুদ্ধি, আখলাক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মানুবর্তিতা, চরিত্রগঠন এবং আত্মিক উন্নয়নের জন্য নিয়মিত তাযকিয়া, বয়ান ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয় যা তাদেরকে জীবনে সফল মুসলিম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
মাদ্রাসার হিফজুল কুরআন বিভাগ একটি গৌরবময় অংশ যেখানে শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করার পাশাপাশি উচ্চতর তাজবিদ ও ক্বিরাতের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ও বিশ্বজয়ী হাফেজদের তত্ত্বাবধানে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ হিফজ মশক আয়োজন করা হয় যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের হিফজ ও ক্বিরাতের গুণগত মান আরও উন্নত করতে পারে।
আল জহিরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার শিক্ষকরা পাঠদান করেন যারা শুধুমাত্র জ্ঞান প্রদান করেন না, বরং ছাত্রদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক গুণাবলীর বিকাশেও গুরুত্ব দেন। আবাসিক ছাত্রদের জন্য রয়েছে সুপরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনুশীলনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
মাদ্রাসাটি বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ ও স্বীকৃত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর অধীনে নিবন্ধিত ও পরিচালিত। বোর্ডের পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা এবং সনদ প্রদান কার্যক্রম মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গাঙ্গী অংশ হিসেবে নিয়মিত সম্পন্ন হয়।
মাদ্রাসার লক্ষ্য শুধুমাত্র আলেম গড়ে তোলা নয়, বরং সমাজ ও উম্মাহর জন্য বিশ্বস্ত ও সৎ নেতৃত্ব প্রদান। তাই শিক্ষার্থীদের চরিত্রগত গুণাবলী উন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আল্লাহর রহমতে এই মাদ্রাসা যুগে যুগে আলোর দিশারি হয়ে থাকবে এবং এখান থেকে বিশ্বমানের আলেম ও দ্বীনদার নাগরিক জন্মাবে, এটাই আমাদের প্রার্থনা।
